হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার এর মধ্যে পার্থক্য

বর্তমানে আমরা সবাই জানি যে, কোনও কম্পিউটার, ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল ডিভাইসে হার্ডওয়্যার এবং সফ্টওয়্যার নামক দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান থাকে। । উভয়ই একে অপরের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল এবং একে অপরকে ছাড়া কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসকে পরিচালনা করতে পারে না।

উভয় একে অপরের উপর নির্ভরশীল হলেও উভয়ের ই কাজ কিন্তু একে অপরের থেকে পৃথক। হার্ডওয়্যার এবং সফ্টওয়্যার এর মধ্যে প্রধান পার্থক্য হ’ল হার্ডওয়্যারটি সবসময় মূর্ত আকারে থাকে এবং সফ্টওয়্যারটি অদৃশ্য আকারে থাকে এবং এমন একটি নির্দেশাবলীর একটি সেট যা ছাড়া কোনো কম্পিউটার বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস কখনোই পরিচালনা করা সম্ভব না।

হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার এর নাম তো শুনলাম এবং কি কাজে এদের ব্যবহার করা হয় তা ও জানলাম। কিন্তু হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার আসলে কি জিনিস সেটা সম্পর্কে এখন জেনে নেই চলুন। 

হার্ডওয়্যার কি?

‘হার্ডওয়্যার’ হলো সেইসব যান্ত্রিক সরঞ্জামগুলি, যা কোনও ক্রিয়াকলাপ বা কার্য সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয়। এটির বিভিন্ন ব্যবহারের সাথে বিভিন্ন আকারের ও হতে পারে। ডিজিটাল স্ক্রিন, বৈদ্যুতিক সাপোর্ট এবং ট্রানজিস্টর, ক্যাপাসিটারগুলি ডিজিটাল এবং ইলেকট্রনিক্স উপাদানগুলির উদাহরণ। হার্ড ডিস্ক, প্রসেসর, মাদারবোর্ড, র‌্যাম, সিডি রম এবং পাওয়ার সাপ্লাই এই সবকিছুই এক ধরণের কম্পিউটার হার্ডওয়্যার। তবে এই তালিকাটি অন্তহীন।

কিছু হার্ডওয়্যার চাবি এবং কিছু প্রয়োজনীয় বাহ্যিক সরঞ্জাম বা প্রোগ্রামের মতো স্বতন্ত্রভাবে ব্যবহৃত হয়। এগুলোর কী টি সর্বদা স্বতন্ত্রভাবে কাজ করে। কী টির কার্য সম্পাদনের জন্য আপনার অন্য কোনও সরঞ্জামের প্রয়োজন নেই। কম্পিউটার হার্ডওয়্যার সর্বদা সঠিকভাবে চালনার জন্য সফ্টওয়্যার প্রয়োজন। এটি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। কম্পিউটারে ইনপুট, স্টোরেজ, প্রসেসিং, নিয়ন্ত্রণ, এবং আউটপুট ডিভাইসগুলি হার্ডওয়্যারের ধরণ। হার্ডওয়্যার মূলত বস্তুগত হওয়ায় আমরা এটি দেখতে এবং স্পর্শ করতে পারি।

এবার আসি ফটওয়্যার কি? চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক –

সফটওয়্যার কী?

সফ্টওয়্যার হলো একটি কম্পিউটিং ডিভাইসের নির্দেশাবলী বা অপারেটিং সিস্টেমের একটি সেট যা কোনো কম্পিউটার বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসকে তার নির্দিষ্ট ক্রিয়াকলাপ পরিচালনার জন্য নির্দেশ দেয়। সফ্টওয়্যার একটি অদম্য ফর্ম যার জন্য আমরা সেগুলি দেখতে পারি না এবং কম্পিউটারটি সফ্টওয়্যার থেকে প্রাপ্ত নির্দেশাবলী সহজেই পড়তে পারে। হার্ডওয়্যার মস্তিষ্কের মতো এবং সফ্টওয়্যার কম্পিউটারের মেমরির মতো। আমরা মস্তিষ্ক দেখতে পারি তবে স্মৃতি নয়।ঠিক তেমনি আমরা হার্ডওয়্যার দেখতে পাই সফটওয়্যার নয়। 

কম্পিউটার এর সফ্টওয়্যারে কম্পিউটার প্রোগ্রাম, অ্যাপ্লিকেশন, অপারেটিং সিস্টেম, লাইব্রেরি এবং তাদের সম্পর্কিত ডকুমেন্টেশন অন্তর্ভুক্ত করা রয়েছে। সফ্টওয়্যার সাধারণত মেশিনের ভাষায় লেখা হয় যা মেশিন কোড হিসাবে পরিচিত। তবে সাধারণত সফ্টওয়্যার উচ্চ-স্তরের কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ভাষায় রচিত হয় যা মেশিন ভাষা হলেও মানুষের পক্ষে ব্যবহার করা সহজ এবং দক্ষ। এই ভাষাগুলি সংকলনের পদ্ধতি বা ব্যাখ্যা বা উভয়ের সংমিশ্রণের পদ্ধতিটি মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে অনুবাদ করে অনুবাদ করা হয়।

হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার এর মধ্যে পার্থক্য 

হার্ডওয়্যার 

  • হার্ডওয়্যার হচ্ছে কম্পিউটার এর বিভিন্ন যন্ত্রপাতি যা মূলত বস্তুগত। যেমন: মনিটর, হার্ডডিস্ক, মাউস, প্রসেসর, র‍্যাম, রম ইত্যাদি।
  • এটি চোখে স্পস্ট দেখা যায় এবং হাত দিয়ে স্পর্শ করা যায়। 
  • সফটওয়্যার ছাড়া হার্ডওয়্যার একটা প্রাণহীন দেহের মতো। 
  • অনেক বড়ো বড়ো শিল্পকারখানা গুলো হার্ডওয়্যার তৈরি করে থাকে। 
  • হার্ডওয়্যার শুধুমাত্র একটি যন্ত্র হওয়ায় এটি সফটওয়্যার এর ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না। 
  • দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করার ফলে হার্ডওয়্যার ড্যামেজ হয়ে যায়। 
  • হার্ডওয়্যার কে কোনো ভাইরাস কোনো ধরনের ক্ষতি করতে পারে না। কারন এট শূধুমাত্র একটি যন্ত্র। 
  • একই হার্ডওয়্যার এক জন ব্যবহার করার পর যদি সেটা ড্যামেজ না হয়ে থাকে তাহলে আরো অনেকেই সেটা ব্যবহার করতে পারে। 
  • হার্ডওয়্যার এর সাহায্যে যানবাহন তৈরি করে যে কোনো স্থানে যখন তখন যাওয়া যায়। 

সফটওয়্যার

  • কম্পিউটার এর নিজস্ব ভাষার সাহায্যে তৈরি করা কম্পিউটার এর বিভিন্ন নির্দেশাবলি বা প্রোগ্রামিং কোডসমূহকে সফটওয়্যার বলা হয়ে থাকে। 
  • সফটওয়্যার অবস্তুগত জিনিস হওয়ায় এটিকে চোখে দেখা যায় না এবং হাত দিয়ে স্পর্শ ও করা যায় না। 
  • কম্পিউটার এর সফটওয়্যার ছাড়া হার্ডওয়্যার অর্থহীন।
  • সফটওয়্যার তৈরি করতে কোনো কারখানার প্রয়োজনে নেই। 
  • সফটওয়্যার হার্ডওয়্যার কে নিয়ন্ত্রন করে। 
  • সারাজীবন ব্যবহার করলে ও সফটওয়্যার কখনো নষ্ট হয় না। 
  • কম্পিউটার এর ভাইরাস সফটওয়্যার এর ক্ষতি করতে পারে। 
  • একই সফটওয়্যার কপি করে সারা বিশ্বের মানুষ ব্যবহার করতে পারে। 
  • সফটওয়্যার তৈরি করার পর ইন্টারনেট এর সাহায্যে মুহূর্তের মধ্যেই সমস্ত বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। 

[হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার এর মধ্যে পার্থক্য]

 

Leave a comment